লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে ৬ জেলেকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মাছ শিকারের সরঞ্জামসহ ৬টি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন এ দণ্ড প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন-মো.সাইফুল ইসলাম,মো.শহিদুল,মো.ইউছুফ, আকবর, রহিম ও মফিজুর রহমান। তারা সবাই ভোলার দৌলতখান এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়,
জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ মাস মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার ও হাট বাজারে তা প্রকাশ্যে বিক্রির মহোৎসব চলছে। মৎস্য অফিস,কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্য অফিসের উদ্যোগে উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মাছ ধরার সময় হাতেনাতে ৬ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী আটক প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযানে মাছ শিকারের সরঞ্জামসহ ৬টি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও আনুমানিক ৪ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য্য সাহা জানান, অভিযানে ৬ জেলেকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৬ টি নৌকা জালসহ জব্দ করা হয়েছে।এবং আনুমানিক ৪ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে।পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাজিরহাট মাছ বাজারে ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় অভয়াশ্রম এলাকার মাছ বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
তিনি আরো বলেন, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা নিধন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।