বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে, এছাড়াও সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সদস্যের মধ্যে কোনো তাঁতী খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ তাঁতী দলের ঘোষিত লক্ষ্য দেশের তাঁতীসমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁতীদের নিয়ে কোনো কর্মসূচিই গ্রহণ করেনি সংগঠনটি, শুধু পদ বাণিজ্য ও শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, কোটি টাকা হাতে নিয়েছেন দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ আছে, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছেন দলটির সদস্য সচিব ও যুগ্ন আহবায়ক সহ কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটির মূল লক্ষ্য তাঁতীসমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, তাঁতশিল্প ও বস্ত্র খাতের সংকট চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী সমাধানের কর্মসূচি গ্রহণ ও বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠন হিসেবে দলের সব কর্মসূচি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করা।
তাঁতীদের সংগঠন হিসেবে এতে তাঁতীদেরই প্রাধান্য পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের মধ্যে কোনো তাঁতী খুঁজে পাওয়া যায়নি। কমিটিতে রয়েছেন প্রকৌশলী, অধ্যাপক,ব্যবসায়ী আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁতীদের উন্নয়নে কোনো কর্মসূচি নেই তাদের। বরং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহযোগী সংগঠন হিসেবে নানা সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে।
কমিটির বিরুদ্ধে বাণিজ্যের অভিযোগ
তাঁতীদের নিয়ে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কমিটি-বাণিজ্যসহ অর্থ আদায়ের নানা অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে অনেককেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তাঁতী দলে কেন্দ্রীয় কমিটির আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঁদপুরে তার নিজ এলাকায় নানা ব্যবসা রয়েছে তার।
প্রতিটি জেলা কমিটির থেকে ৪/৫ লাখ টাকা করে হাতে নিয়েছেন। এছাড়াও
মেহেদী হাসান মিন্টু এবং কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা শাখার সভাপতি জাহেদুল হুদা। মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য রোমানা আহমেদের থেকে ২ লাখ করে মোট ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী জাহেদুল হুদা জানান আহ্বায়ক হওয়ার পরেও ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় তাকে পরবর্তী সময়ে কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। তবে অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি।
কমিটি-বাণিজ্য কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার তিনি একটি সভায় ব্যস্ত আছেন। পরে কথা বলবেন। এরপর টানা কয়েক দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর কথা বলেননি।


