গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে কথিত ডিবি পুলিশের পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তি ও মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ডিবি পুলিশের “ফরমা” পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডে তার সঙ্গে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আলিমের নাম উঠে এসেছে। যদিও তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থান করেন, তথাপি গাজীপুরে কিছু মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ডিবি কর্মকর্তা আলিমের নাম ব্যবহার করেই ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় ও হয়রানি করা হয়।
সম্প্রতি গাছা থানার খাইলকুর এলাকায় এক বিকাশ দোকানদার মাসুমকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে সারারাত নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মাসুম জানান, তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে কথিত ডিবি পুলিশ ফরমা কর্তৃক চালানো এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন।
ভুক্তভোগীর দাবি, কথিত ডিবি পুলিশ ফরমা হেলাল উদ্দিন ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা ডিবি কর্মকর্তা আলিমের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন।
এ ঘটনায় অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রমাণ থাকলেও অভিযুক্তদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, কথিত ডিবি পুলিশের ফরমা হেলাল উদ্দিন নিয়মিতভাবে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। যারা মাসোহারা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের বিরুদ্ধে ডিবি কর্মকর্তা আলিমের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আটক মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য সম্পূর্ণভাবে থানায় জমা না দিয়ে একটি অংশ কথিতভাবে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার অধীনে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ডিলারদের মাধ্যমে পুনরায় মাদক সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হেলালের সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে হাজী মার্কেট এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পারভেজ ওরফে হৃদয়, সাব্বির, আল হাসানসহ আরও অনেকে। এসব সিন্ডিকেট লিডারের অধীনে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
উল্লেখ্য, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পারভেজের বিরুদ্ধে গাছা থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তবে অর্থের বিনিময়ে তিনি বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে আসছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাছা থানা পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করলে এসব কথিত ডিবি সদস্য ও মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অভিযোগে উল্লিখিত ডিবি কর্মকর্তা আলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু অডিও রেকর্ড ও ছবি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে পোস্ট করা হচ্ছে, যার ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ লাইনে অবস্থান করছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলে জানান। তার দাবি, প্রচারিত অডিও রেকর্ডে যে কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, তা তার নয় এবং তিনি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কথিত ডিবি পুলিশ ফরমা ও মাদক সিন্ডিকেটের ভয়-ভীতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা জানান।


